সিসি ডেস্ক: ছয়টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে ব্যাংকঋণ সুবিধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। একইসঙ্গে চাতাল মিল মালিকরা পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে খাদ্য মন্ত্রণালয় তাদের লাইসেন্স বাতিল করবে। পাশাপাশি আমদানি ও রফতানিকালে পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইআরসি বা ইআরসি বাতিল করবে।
তিনি আরো বলেন, ‘ছয়টি পণ্যে শতভাগ পাটের বস্তার ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হবে। গত ৩০ নভেম্বর থেকে সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সব স্তরের মানুষের মধ্যে এ আইন পালনে আন্তরিক সাড়া পাওয়া গেছে। ছয়টি পণ্যে শতভাগ পাটের বস্তার ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র।’
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ শতভাগ সফলতা অর্জন পযর্ন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। এ আইন বাস্তবায়নের সময় ছিল ২০১৪ সাল । কিন্তু সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে এ আইন বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর রয়েছে।’
এ আইন পালনে সবার আন্তরিক সহযোগিতার জন্য দেশের সব ব্যবসায়ীকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, ‘এ অভিযান মনিটরিংয়ের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবদের সমন্বয়ে ১০টি পৃথক মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী দুই মাসে যে পরিমাণ পাটের ব্যাগ বা বস্তার প্রয়োজন হবে তা ইতিমধ্যে মজুদ রয়েছে। এসব সরবরাহ করবে রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান বিজেএসসি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কারাদ-, অর্থদ-, ব্যাংকঋণ সুবিধা বন্ধ, লাইসেন্স বাতিল, আইআরসি বা ইআরসি বাতিলের বিধান রেখে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০, বাস্তবায়নে সাঁড়াশি অভিযান চালু রয়েছে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০-এর ধারা ১৪ অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ অপরাধ পুনঃসংগঠিত হলে সর্বোচ্চ দ-ের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।’
বুধবার সারা দেশের মতো রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগের চৌধুরীপাড়া ও মালিবাগ রেলগেট বাজারের চালের আড়ৎগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলার নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিন। এ সময় একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। এ সময় পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি সংরক্ষণ ও পরিবহনে পাটের বস্তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে।